আমের ইতিহাস

আম সম্পর্কে কিছু তথ্য যা সকলের জানা উচিত

আম সম্পর্কে কিছু কথাঃ

আম একটি রসালো ও গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় ফল। পাকলে এটিকে সরাসরি খাওয়া যায় কিংবা কাঁচা অবস্থায় আঁঁচার কিংবা চাটনি বানানো যায়। দুনিয়ায় নানা বৈচিত্র্যের আম রয়েছে, যার সবগুলো হয়তো আমাদের সুপার মার্কেটে পাওয়া যাবে না। এখানে আম সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য উল্লেখ করা হচ্ছে যা অনেকের কাছেই অজানা – 

→আমের রয়েছে শত শত জাত। অঞ্চল ভেদেও একই আমের জাতের ভিন্নতা আছে। কোনোটা রসালো আর মিষ্টি, কোনোটা টক আবার কোনোটা আনারসের মতো স্বাদ। আবার সুপারমার্কেটে প্রায়শই এমন আমও কিনতে পাওয়া যায় যেগুলো মিশ্র স্বাদের। মজার ব্যাপার হচ্ছে আম পাকিস্তান, ভারত এবং ফিলিপাইন এই তিনটি দেশের জাতীয় ফল। বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হলো আম গাছ।

ইংরেজিতে ম্যাঙ্গো শব্দটি সম্ভবত তামিল ‘ম্যানকেই’ কিংবা তামিল ‘মানগা’ শব্দ থেকে এসেছে। যখন পর্তুগিজ ব্যবসায়ীরা দক্ষিণ ভারতে বসতি স্থাপন করে, তারা নাম হিসেবে ‘ম্যাংগা’ শব্দটি গ্রহণ করে। আর যখন ব্রিটিশরা ১৫শ এবং ১৬শ শতকের দিকে ভারতে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে ব্যবসা শুরু করে, তখন ইংরেজি অভিধানে ‘ম্যাঙ্গো’ শব্দটির জন্ম। প্রতিবছর সারাবিশ্বে প্রায় ৪৬ মিলিয়ন টন আম উত্পন্ন হয়। আমই সম্ভবত একমাত্র ফল যেটি গোটা পৃথিবীর মানুষ চেনে। কারণ এটি প্রায় সব দেশে পাওয়া যায়। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আম উত্পন্ন হয় ভারতে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে বছরে ১৮মিলিয়ন টন আম উত্পন্ন হয়, যা বিশ্বের মোট আম উত্পাদনের ৪০ শতাংশ। আম উত্পাদনের দিক থেকে এরপরেই চীন এবং থাইল্যান্ডের অবস্থান।
তথ্য অনুসারে, ভারতে প্রথম আম জন্মে পাঁচ হাজার বছর আগে। হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশে ভারত এবং মিয়ানমারে প্রথম বন্য আম উত্পন্ন হয় বলে ধারণা করা হয়। ওই সময়ই আমের চাষ করা হয় ভারতের দক্ষিণ অংশ, মিয়ানমার এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে। ১৪শ’ শতাব্দীর উত্তর আফ্রিকার মহান পর্যটক ও পণ্ডিত ইবনে বতুতার লেখাতে আমের বিবরণ পাওয়া যায়। তিনি মোগাদিসুতে আম দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন। সবচেয়ে প্রাচীন যে আম গাছটি এখনো বেঁচে আছে সেটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। মধ্য ভারতের পূর্ব কান্দেশে আছে এই গাছটি। আশ্চর্যের বিষয় হলো বিশ্বের প্রাচীনতম গাছটি এখনো ফল দিয়ে যাচ্ছে।

আম আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এক কাপ আমে থাকে ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এর প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯ থেকে ৬৪ বছরের পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত খাদ্যতালিকায় এটি ৬০ মিলিগ্রাম। এছাড়া আমে রয়েছে ২০ টি ভিন্ন ভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ, যার মধ্যে অধিক পরিমাণে ভিটামিন এ, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি এর একটি উপাদান ফোলাইট থাকে। এছাড়া আমে আছে প্রচুর আঁঁশ। গিনেস বুক এর রেকর্ড বলছে, বিশ্বে এখন পর্যন্ত সবচে বড় যে আমটি পাওয়া গেছে তার ওজন ৩ দশমিক ৪৩৫ কেজি আর দৈর্ঘ্য ৩০ দশমিক ৪৮ সেন্টি মিটার। ২০০৯ সালে ফিলিপাইনের সার্জিও ও মারিয়া সিকোরো বোডিওনগানের বাগানে আমটি হয়েছিল।

More Information

👉ঘরে বসেই রাজশাহী বা চাঁপাই নবাবগঞ্জের আম কিনুন

👉আমের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানুন

👉 সরাসরি চাঁপাই নবাবগঞ্জ বা রাজশাহির কেমিকেলমুক্ত আম নিতে চাইলে ফোন করুনঃ ০১৭০৪৮০৫২৭৯, ০১৭৫১৭২৩৩৭০, ০১৭৬৫৭১৭৩১৬

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!