করোনা ভাইরাস থেকে বাচার উপায়

করোনা ভাইরাস থেকে বাচার উপায় – A to Z সমাধান

করোনা ভাইরাস থেকে বাচার উপায়

 করোনা ভাইরাস থেকে বাচার উপায়
করোনা ভাইরাস থেকে বাচার উপায়

করোনাভাইরাস, যার পোশাকি নাম কোভিড-১৯ । করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। সারাবিশ্বে এরই মধ্যে ১৫০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস, বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে ৭ হাজারের বেশি মানুষের। (সুত্রঃBBC)

করোনা ভাইরাস রোগের লক্ষনসমূহঃ

রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ দেখা দেয়, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

মানুষের মধ্যে যখন ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেবে তখন বেশি মানুষকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকবে তাদের। তবে এমন ধারণাও করা হচ্ছে যে নিজেরা অসুস্থ না থাকার সময়ও সুস্থ মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত করতে পারে মানুষ।

শুরুর দিকের উপসর্গ সাধারণ সর্দিজ্বর এবং ফ্লু’য়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্থ হওয়া স্বাভাবিক।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অনেককে সার্স ভাইরাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে যা ২০০০ সালের শুরুতে প্রধানত এশিয়ার অনেক দেশে ৭৭৪ জনের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলো ।

নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি অনেকটাই সার্স ভাইরাসের মতো।

“আমরা যখন নতুন কোনো করোনাভাইরাস দেখি, তখন আমরা জানতে চাই এর লক্ষ্মণগুলো কতটা মারাত্মক। এ ভাইরাসটি অনেকটা ফ্লুর মতো কিন্তু সার্স ভাইরাসের চেয়ে মারাত্মক নয়,” বলছিলেন এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মার্ক উলহাউস। (সুত্রঃBBC)

বর্তমানে বাংলাদেশেও ‘করোনা ভাইরাস’ একটি আতঙ্কিত রুপ ধারন করেছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ১ জন মারা গিয়েছে। তাই আমাদের সকলকে এখন যথেষ্ট পরিমাণ সচেতন হতে হবে।

করোনা ভাইরাসটির সচেতনটা সম্পর্কে আমাদের দেশের বিভিন্ন ডাক্তার উপদেশ ও পরামর্শ গুলো দেয়া হলোঃ

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ এর পরামর্শঃ

১। বারবার সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে থাকুন।

২। হ্যান্ডশেক ও কোলাকুলি করবেন না।

৩।হাত না ধুয়ে মুখ, চোখ ও নাক স্পর্শ করবেন না।

৪।হাঁচি, কাশিতে টিস্যু বা রুমাল ইউজ করুন।
তারপর টিস্যুটি ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন।
রুমাল হলে ব্যবহার এর পর ধুয়ে ফেলুন।

৫।সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ফ্লু এর জন্য জ্বর, সর্দি ও কাশি হলে বাড়িতে অবস্থান করুন।

৬।ডাক্তার এর চেম্বার বা হাসপাতাল ক্লিনিক এড়িয়ে চলুন।

৭। প্যারাসিটামল ও এন্টিহিস্টামিন খান।
টেপিড স্পঞ্জিং করুন।
প্রচুর লিকুইড খান।
বিশ্রামে থাকুন।

৮। আপনি ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসার জন্য ডাক্তার এর কাছে এসে পটেশসিয়াল থ্রেট করোনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা আছে কারণ ডাক্তাররা অরক্ষিত।।

৯।গন পরিবহন এড়িয়ে চলুন।

১০। বাস, ট্রেন,উবার ব্যবহার এর পর হাত ধুয়ে ফেলুন।

১১।ব্যাংকে গেলে এক কলমে সবাই চেক লিখি,ডিপোজিট স্লিপ লিখি,সেই কলম ব্যবহার না করে নিজের কলম ব্যবহার করুন।

১২।এটিম বুথ এর বাটন ইউজ এর পর হাত ধুয়ে নিন।

১৩।লিফটের বাটন ইউজের পর হাত ধুয়ে নিন।

১৪।আপনার মোবাইল, ল্যাপটপ, অফিস ডেস্ক পরিস্কার রাখুন।

১৫।টাকা গুনার পর হাত ধুয়ে ফেলুন।

১৬।মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে থাকুন।।

১৭।স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকুন।

১৮।মাস্ক নিয়ে মাতামাতির কিছু নাই।
মাস্ক এই ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সক্ষম নয়।
যিনি অসুস্থ এবং যারা সেই অসুস্থ ব্যক্তিকে সেবা দিবেন, তারাই মাস্ক পরুন।

১৯।গরমে এই ভাইরাস টিকবে না এমন হাস্যকর সুখ চিন্তায় বিভোর হবেন না।

এই মুহুর্তে আমরা যা পারি তা হলো – আগামী ১৪ দিন নিজ বাসায় অবস্থান করুন। আর এটাই আমাদের রক্ষা করতে পারে। আপনি সচেতন হলেই বাঁচবেন আপনি ও আপনার স্বজন। {ডাঃ জোবায়ের আহমেদ}

Dr. Tania Rahman Tonny এর পরামর্শঃ

খুব ইমার্জেন্সি ছাড়া বাসা থেকে বের হবেন না।
যারা বাইরে কাজ করেন, আসার সাথে সাথেই হাজার কষ্ট হলেও ড্রেস চেইঞ্জ করে হাত/পা ধুয়ে ফেলবেন। হ্যান্ড ওয়াশ না পেলে প্যানিক হবেন না, ক্ষার বেশি এমন যেকোন সাবান হলেও হবে। বেস্ট হয় গোসল করে ফেললে।
প্রেগন্যান্ট আপু যারা আছেন কাইন্ডলি নিজেকে ঘরবন্দী করে ফেলুন। সাথে আমাদের বয়স্ক বাবা-মা, যাদের ডায়েবিটিস, টিবি, এজমা সহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় ভুগছেন তারাও নিজেদের নিজেরা আইসোলেট করে ফেলুন।
যাবতীয় আতিথেয়তা, সামাজিকতা পরিহার করুন।

আর বাইরে থেকে যে জুতা ব্যাগ নিয়ে বাসায় আসবেন, সেইগুলায় এই মিক্সচার (#১লিটার পানি+ ১/২ক্যাপ #ডেটল/#স্যাভলন/#ফিনাইল/ ৪চা চামচ #ব্লিচিং/) স্প্রে করুন।

ঘর প্রতিদিন ডেটল/লাইজল/ ব্লিচিং/ হুইল যেটা কাছে থাকে দিয়ে পরিষ্কার করুন। মোবাইল দিনে ৪/৫বার ডিসইনফেক্ট্যান্ট করুন।
প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে লেবু, মধু, আদা, লং নিয়মিত বাসার সবাই সেবন করুন।

stay at home, stay safe.
Dr. Tania Rahman Tonny

Gaousul Azam এর পরামর্শঃ

ইমার্জেন্সি প্রয়োজন ছাড়া দয়া করে কেও বাসার বাইরে যাবেন না।
কারও যদি
#জ্বর
#ঠান্ডা কাশি
#শ্বাসকষ্ট
#মাথা ব্যাথা থাকে
তাহলে বাসায় থাকেন কমপক্ষে ১৪ দিন।

বাসায় যে জরুরী ঔষধ রাখতে পারেন:
#ট্যাবলেট প্যারাসিটামল
দিনে ৩-৪ বার করে
#ট্যাবলেট ফেক্সোফেনাডিন ১২০
দিনে ১-২ বার করে
#লেবু পানি, দিনে ১-২ বার করে( ভাল ও আক্রান্ত সবার জন্য)
#মুখে মাস্ক ব্যাবহার করা, নিজের পরিবারের সদস্যদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা( আক্রান্ত হলে) কমপক্ষে ১ মিটার।
# নিয়মিত হাত ধুতে হবে সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে, ২০ সেকেন্ড ধরে নুন্যতম।
# নাক, মুখ, গলা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুতে হবে নিয়মিত ভাবে।
# বাসার মুরুব্বীদের নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে পাঠাবেন না। মুরব্বীরা বেশী ঝুকিতে কোভিড-১৯ এর দ্বারা।
উল্লেখিত সমস্যা ৫-৬ দিনের বেশী স্থায়ী হলে IEDCR এর হটলাইনে কল করুন অথবা
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
মেট্রোপলিটন হাসপাতাল
কুয়েত মৈএী হাসপাতাল
ঢাকার বাইরে জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

ডা. মো. শরিফুল ইসলাম এর পরামর্শ (সূত্রঃ প্রথম আলো)

করোনায়_করণীয়_কীভাবে_কোয়ারেন্টিন

কোয়ারেনটিনে থাকার ঘরটি হবে আলো–বাতাসে পূর্ণ এবং পরিচ্ছন্ন। কোয়ারেনটিনে থাকার ঘরটি হবে আলো–বাতাসে পূর্ণ এবং পরিচ্ছন্ন।

যেকোনো সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা করা গেলে বা মেনে চললে সহজেই সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। এই ব্যবস্থা ফলপ্রসূ করতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

কোয়ারেন্টিন_ও_আইসোলেশন_আসলে_কী?

কোয়ারেন্টিন হলো কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে ছিল বা ব্যাপক ছড়িয়ে পড়া সংক্রামক রোগের এলাকা থেকে এসেছে, কিন্তু পরীক্ষায় সেই সংক্রামক রোগের লক্ষণ বা জীবাণু তার শরীরে পাওয়া যাচ্ছে না। আর আইসোলেশন হলো তার শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই দুই দলকেই অন্যান্য সুস্থ মানুষের সংস্পর্শ থেকে আলাদা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় হলো ১৪ দিন। তবে ভিন্নমতও আছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আরও কিছুদিন বেশি হতে পারে। এই ১৪ দিনে যদি সেই ব্যক্তির শরীরে রোগের উপসর্গ বা জীবাণু না পাওয়া যায়, তাহলে তার কোয়ারেন্টিন শেষ বলে ধরা হবে, কিন্তু ১৪ দিনের মধ্যে জীবাণু পাওয়া গেলে সেই ব্যক্তিকে আলাদা রাখতে হবে। আর আলাদা রাখার এই ব্যবস্থাপনাকে আইসোলেশন সময় বলা হবে। রোগ থেকে সম্পূর্ণ ভালো বা জীবাণুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বা চিকিৎসকের পরামর্শে আইসলেশনের মেয়াদকাল নির্ধারিত হবে।

ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা সন্দেহে থাকা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। যার অথবা যাদের কোনো শারীরিক উপসর্গ নেই, তাদেরও ১৪ দিন স্বেচ্ছা বা হোম কোয়ারেন্টিন পালন বাধ্যতামূলক। কারণ, এই সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় উপসর্গ বা জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যেতে পারে।

হোম_কোয়ারেন্টিনে_কীভাবে_থাকবেন

বাড়ির অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা এবং আলো–বাতাসের সুব্যবস্থা আছে, এমন আলাদা একটি ঘরে থাকতে হবে। কোনোভাবে তা সম্ভব নাহলে অন্যদের থেকে অন্তত ১ মিটার বা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

● ঘুমানোর জন্য আলাদা বিছানা ব্যবহার করতে হবে।

● যদি সম্ভব হয়, তাহলে আলাদা গোসলখানা ও টয়লেট ব্যবহার করতে হবে।

● শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে মাকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

● কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কোনো পোষা প্রাণী (পাখিও) রাখা যাবে না।

● বাড়ির অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে একই ঘরে থাকার সময় বা ১ মিটারের মধ্যে এলে ও জরুরি দরকারে বাড়ি থেকে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্কে সর্দি, থুতু, কাশি, বমি ইত্যাদি লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি পাল্টে নতুন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

● ব্যবহার করা মাস্ক ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন বা ময়লা রাখার পাত্রে ফেলতে হবে।

কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় পছন্দের কাজটি করা যায়
কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় পছন্দের কাজটি করা যায়
হাত ধোয়া
কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে নিয়মিত। প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মুখ ঢেকে হাঁচি–কাশি দিতে হবে
কাশির সময় শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। হাঁচি–কাশির সময় টিস্যু, মাস্কে কিংবা বাহুর ভাঁজে মুখ ও নাক ঢেকে রাখতে হবে এবং ওপরের নিয়ম অনুযায়ী হাত পরিষ্কার করতে হবে।

● টিস্যু ও মেডিকেল মাস্ক ব্যবহারের পর ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।

● ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যাবে না।

● বাসনপত্র—থালা, গ্লাস, কাপ ইত্যাদি; তোয়ালে ও বিছানার চাদর অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যাবে না। এসব জিনিস ব্যবহারের পর সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

কখন কোয়ারেন্টিন শেষ হবে?
বিভিন্ন সংক্রামক রোগের কোয়ারেন্টিনের সময়সীমা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৪ দিন।

কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় যা করা যেতে পারে
● পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে টেলিফোন, মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখা যেতে পারে।

● শিশুকে পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী দেওয়া যেতে পারে এবং খেলার পর খেলনাগুলো জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

● দৈনন্দিন রুটিন, যেমন খাওয়া, হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি মেনে চলতে হবে।

● সম্ভব হলে বাসা থেকে অফিসের কাজ করা যেতে পারে।

● বইপড়া অথবা নিয়মের পরিপন্থী নয়, এমন যেকোনো আরামদায়ক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে।

পরিবারের_সদস্যদের_জন্য
বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং যাঁর দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলো, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার, অ্যাজমা প্রভৃতি নেই, এমন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে পরিচর্যাকারী হিসেবে নিয়োজিত করতে হবে। তিনি ওই ঘরে বা পাশের ঘরে থাকবেন, অবস্থান বদল করবেন না।

কোয়ারেন্টিনে আছে এমন কারও সঙ্গে কোনো অতিথিকে দেখা করতে দেওয়া যাবে না।

পরিচর্যাকারীর_কী_করণীয়
নিয়মিত হাত পরিষ্কার করবেন। বিশেষ করে কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে, খাবার তৈরির আগে ও পরে, খাওয়ার আগে, গ্লাভস বা হাতমোজা পরার আগে ও খোলার পরে, যখনই হাত দেখে নোংরা মনে হয়, খালি হাতে ও ঘরের কোনো কিছু স্পর্শ করবেন না।

কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির পরিচর্যায় ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস, টিস্যু ইত্যাদি অথবা অন্য আবর্জনা ওই ঘরে ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে রাখতে হবে। এসব আবর্জনা খোলা জায়গায় না ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

ঘরের মেঝে, আসবাব, টয়লেট ও বাথরুম প্রতিদিন অন্তত একবার পরিষ্কার করতে হবে। ব্লিচিং পাউডার পানিতে মিশিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে নিজের কাপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালেসহ ব্যবহৃত কাপড় গুঁড়া সাবান বা কাপড় কাচার সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে বলুন এবং শুকিয়ে ফেলুন।

উপসর্গ_দেখা_দিলে
যদি কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন জ্বর, কাশি–সর্দি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি, অতিদ্রুত রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হটলাইনে অবশ্যই যোগাযোগ করুন এবং পরবর্তী করণীয় জেনে নিন।

জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩।

লিখেছেনঃ ডা. মো. শরিফুল ইসলাম
সূত্রঃ প্রথম আলো

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য ওলামা হজরতদের পরামর্শ ও আমল সমূহঃ

আবদুল্লাহ তালহা হজরতের টাইমলাইন থেকেঃ

করোনা ভাইরাসের রুকিয়া
শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতি তাকি উসমানী দা.বা. এক অডিও বার্তায় বলেন,

তাবলীগ জামাতের একজন নেককার বুযুর্গ ব্যক্তির স্বপ্নযোগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুলাকাত হয়েছে। সেই স্বপ্নে বর্তমান বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস নামক মহামারী থেকে বাঁচার জন্য রাসূল সা. তিনটি আমল শিখিয়ে দিয়েছেন।

★আমল ৩টি হলো-
১) সূরা ফাতিহা পাঠ করা তিনবার।
২) সূরা ইখলাস পাঠ করা তিনবার।
৩) ﺣَﺴْﺒُﻨَﺎ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﻭَﻧِﻌْﻢَ ﺍﻟْوكيلُ তিনশ তেরোবার পড়া।

তবলীগের এই বুযুর্গ সাথী উল্লিখিত স্বপ্নের কথা শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানী হাফিযাহুল্লাহকে শুনিয়েছেন। মুফ‌তি তা‌কি উসমা‌নী সা‌হেব ব‌লেন, স্বপ্ন য‌দিও হুজ্জাত না। ত‌বে এই স্বপ্ন থে‌কে সুসংবাদ নি‌য়ে আমল কর‌তে কো‌নো বাধা নেই।

সেই সাথে, বারবার ওযু করা ও এবাদত দুআয় খুব মনোনিবেশ করা।

Waliul Islam হজরত এর টাইমলাইন থেকেঃ

ইসলামের_দৃষ্টিতে_করোনা_ভাইরাস

(বন্ধুবর কয়েকজন ভাইয়ের অনুরোধে এটা তৈরী করা হয়েছে। হাতে সময় ছিল খুব স্বল্প। তাই খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে ইমাম-খতীবদের জন্য তৈরী করা। যারা দুয়েকটা পয়েন্ট দেখেই নিজেদের খুতবা সাজিয়ে নিতে পারবেন। কারো ফায়দা হতে পারে তাই পোস্ট করা হলো)

হামদ ও সালাতের পর!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

মুহতারাম মুসল্লিবৃন্দ, আপনাদের কারো অবগতির বাহিরে নেই যে, বর্তমান পৃথিবী এক মহা মহামারিতে আক্রান্ত। যার নাম করোনা বা কোভিড-১৯। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো থেকে নিয়ে অনুন্নত দেশ- সবখানে এই মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের পরাশক্তির অধিকারী দেশগুলো আজ দিশেহারা। চীনের মতো সর্বোন্নত প্রযুক্তির দেশ কী করবে কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ মারা যাচ্ছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। যাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা সবচেয়ে উন্নত তারাও হিমশিম খাচ্ছে এইসব রোগীদের নিয়ে। ডাক্তার ও নার্সদের ঘুম নেই। দেশের হর্তাকর্তাদের নাওয়া-খাওয়া এক রকম বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক শহর করে দেয়া হয়েছে লক-ডাউন অর্থাৎ দীর্ঘ মেয়াদের জন্য সব ধরনের চলাফেরা- গণজমায়েত, শপিংমল, পর্যটনস্পট ইত্যাদি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে দুঃসংবাদ হলো, আমাদের এই দেশেও রোগটি ঢুকে পড়েছে। ইতিমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক-দু‘জনের ইন্তিকালের সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। সর্বত্র এক ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে।

এখানে প্রসঙ্গত বলছি, এই ভাইরাস দিয়ে আল্লাহ তাবৎ বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন আল্লাহর কুদরতের সামনে মানুষের শক্তি-ক্ষমতা কতটা দুর্বল! মানুষ কতটা অসহায়। আল্লাহ তাঁর এক অদৃশ্য- যা খালি চোখে দেখা যায়না, সৈন্য দিয়ে তাবৎ দুনিয়াকে কেমন অস্থির অশান্ত করে দিয়েছেন। কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে সুপার পাওয়ারগুলো। রাতের ঘুমও উবে গেছে অনেকের। এই তো হলো মহা ক্ষমতাধর আল্লাহর ক্ষমতা।

যা হোক, যে কোনো বিপদ-মুসিবতই হোক, মুমিনের করণীয় হলো কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনার আলোকে আলো গ্রহণ করে অগ্রবর্তী হওয়া। এটাই মুমিনের জন্য আবশ্যক ও অত্যন্ত কল্যাণকর। ঈমানের দাবী হলো, যে কোনো পরিস্থিতে শরীয়তের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা। তাই আমাদেরকেও এখন দেখতে হবে করোনা ভাইরাস বা এ ধরনের মহামারি রোগ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

মুহতারাম মুসল্লিবৃন্দ!
সবসময় সর্বপ্রথম আমাদেরকে যে বিষয়টার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে তা হলো আমার ঈমান-আকিদা। যে কোনো সমস্যা সংকটে আমার আপনার ঈমানের উপর কোনো আঘাত আসে কি না, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, সহিহ মুসলিমে রাসূলুল্লাহ সা.এর একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যাতে আল্লাহর রাসূল সা. এরশাদ করছেন- রাতের আধারের মতো একের পর এক ফিতনা নাযিল হওয়ার পূর্বেই তোমারা নেক আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় এমন অবস্থা হবে যে, একজন ব্যক্তি সকালে মুমিন থাকবে তো বিকালে কাফের হয়ে যাবে। আবার বিকালে মুমিন থাকবে তো সকালে কাফের হয়ে যাবে। ( আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন, আমীন)

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যে বিষয়টা আমাদের আকীদায় আঘাত হানছে তা হলো এই ভাইরাসকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী মনে করছি আমরা। আমরা অনেকেই মনে করছি, এই ভাইরাসের রয়েছে মহা ক্ষমতা। জাহেলি যুগের কাফের মুশরিকদের মাঝেও এই ধরনের ধ্যান-ধারণা ছিল। তারা মনে করতো, রোগ-ব্যধির মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা আছে, এগুলোতে রয়েছে বিরাট শক্তি। এজন্য রাসূল সা. এই চিন্তা-চেতনাকে বিলুপ্ত করার জন্য ঘোষণা দিয়েছেন,
অর্থ: কোনো রোগের সংক্রমণ নেই, কোনো কুলক্ষণ নেই এবং পেঁচার ডাকে বা সফর মাসে কোনো অশুভতা নেই। আর কুষ্ঠ রোগী থেকে পলায়ন করো যেভাবে সিংহ থেকে পলায়ন কর। ( সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫৭০৭)

সহিহ মুসলিমে রাসূলে কারিম সা.এর উক্ত হাদিস শোনার পর একজন গ্রাম্য ব্যক্তির একটি প্রশ্নের কথাও উল্লিখিত হয়েছে। সেই গ্রাম্য সাহাবি রা. রাসূলকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাতে সেই উটপালের অবস্থা কী যে কোনো বালুকাময় প্রান্তরে অবস্থান করে এ অবস্থায় যে, যেন তা সুস্থ-সবল উট, অতঃপর খুঁজলি-পাঁচড়ায় আক্রান্ত উটকে আনা হয় এবং সেটা অন্য সব সুস্থ উটকে খুঁজলি-পাঁচড়ায় আক্রান্ত করে? তার উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাহলে বলো, প্রথম উটটাকে কে সংক্রমিত করেছে? ( সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২২২০)

এসব হাদিস থেকে সুস্পষ্টরূপে বুঝে আসে রাসূলুল্লাহ সা. রোগের সংক্রামনকে নাকোচ করেছেন।

আবার এটাও লক্ষণীয় যে, উপরোক্ত হাদিসদ্বয়ের প্রথম হাদিসের শেষাংশে রাসূল সা. কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সংক্রান্ত আরো কিছু বর্ণনাও আমরা দেখতে পাই। যেমন হযরত আবু হোরাইরা রা.থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, রোগগ্রস্ত উট যেন সুস্থ উটের উপরে উপনীত না হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৫৯০৫)

এ সংক্রান্ত আরেকটি হাদিসে আমর ইবনে শারিদ রহ. স্বীয় পিতা শারিদ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, বনি সাকিফের প্রতিনিধি দলে একজন ব্যক্তি কুষ্ঠরোগী ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সা. তার নিকট সংবাদ পাঠিয়ে বললেন, নিশ্চয় আমরা তোমাকে বাইয়াত করে নিয়েছি। সুতরাং তুমি ফিরে যাও। ( সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২২৩১)

অপর আরেকটি হাদিসে হযরত উসামা বিন যায়েদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন তোমরা শুনবে, যে কোনো স্থানে প্লেগ বা কোনো মহামারি হয়েছে তাহলে সেখানে প্রবেশ করবে না। আর যখন কোনো স্থানে সেই প্রাদুর্ভাব হয় এবং তোমরা সেখানে থাক, তাহলে সেখান হতে বের হবে না। ( সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫৭২৮)
উপরিউক্ত সবগুলো হাদিস এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বর্ণনা পড়ে আমরা বলতে পারি, কোনো রোগ বা মহামারির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার নিজস্ব কোনো ক্ষমতাই নেই। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তা অন্যের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য আজ আমরা রোগ বা মহামারিকে যেভাবে বিরাট আকারে ভয় করছি ততটা ভয় করা উচিত নয়। বরং রোগের মালিক আল্লাহকে বেশি ভয় করা উচিত। কেননা তিনিই রোগ-বালাই দান করেন, তিনিই আরোগ্য দান করেন। তিনি অসুস্থতার মালিক এবং একমাত্র তিনিই সুস্থতার মালিক। তিনি চাইলে রোগ হবে। নাই চাইলে উক্ত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির নিকটে গেলেও রোগ হবে না।

তবে হাঁ আমাদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যে কোনো বিপদ-মুসিবত ও অসুখ-অসুস্থতার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা সুন্নাত। ডাক্তারগণ আমাদেরকে যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

রোগ-মুসিবত ও মুসলমান
সম্মানিত মুসল্লিবৃন্দ! আমাদেরকে একজন মুসলিম হিসেবে সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, করোনা ভাইরাস বলি বা অন্য কোনো রোগ-শোক ও বিপদ-মুসিবতÑ যাই হোক না কেন সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনের জন্য পরীক্ষা। এইসব রোগ ও মুসিবত দিয়ে আল্লাহ মুমিনকে পরিক্ষা করেন। তাদের ঈমানকে আরো মজবুত করেন। তার মর্তবা-মর্যাদা আল্লাহর কাছে আরো বৃদ্ধি পায়। সেই ব্যক্তি সবরের মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় হতে হতে অনেক নিকটবর্তী হয়ে যায়।

এ দুনিয়া রোগ-বালাই ও বিপদ মুসিবতেরই স্থান। এজন্য আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বলেছেন,
অর্থাৎ, অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো। তাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েত প্রাপ্ত। (সুরা বাকারা: ১৫৩-১৫৮)

দেখুন এই আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তিনি আমাদেরকে বিপদ-মুসিবত দিয়ে পরীক্ষা করবেন। তাই আমাদের করণীয়ও তিনি বলে দিয়েছেন। এই আয়াতের দুই আয়াত পূর্বেই রব্বে কারিম বলেছেন, তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে আমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর। আর পরের অংশে বলছেন, তোমরা ইন্না লিল্লাহ…. পাঠ করো।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, বিপদ-মুসিবত ও রোগ-বালাই আল্লাহর পক্ষ থেকে মহা পরীক্ষা। ঈমানের পরীক্ষা। আমলের পরীক্ষা। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতও বটে। এর দ্বারা আল্লাহ আখেরাতে অনেক প্রতিদান দান করবেন। একটি সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নিশ্চয় আখেরাতের প্রতিদান দুনিয়ার বিপদ-মুসিবত অনুযায়ী প্রদান করা হবে। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যখন কোনো কওমকে ভালোবাসেন তখন তাদেরকে পরীক্ষা করেন। তখন যে ব্যক্তি আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে। আর যে ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয় আল্লাহও তার প্রতি ক্রোধান্বিত হন। (তিরমিযি, ইবনে মাজাহ)

বিপদ-মুসিবত দ্বারা মুমিনের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং আখেরাতে তার মর্তবা উন্নিত হয়। যেমনভাবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তির ব্যাপারে আল্লাহ কল্যাণের ফায়সালা করেন আল্লাহ তার জন্য দুনিয়াতে শাস্তিকে অগ্রবর্তী করে দেন। আর যে ব্যক্তির ব্যাপারে আল্লাহ অকল্যাণ চায় তার থেকে বিপদাপদ দূরে রেখে দেন। আর আখেরাতে তার সকল পাপের জন্য শাস্তি প্রদান করবেন। (তিরমিযি)

উপরোক্ত হাদিসসমূহ ও এ সংক্রান্ত অপরাপর হাদিসের আলোকে মনীষীগণ বিভিন্ন বাণীও বলেছেন।
হযরত হাসান বসরি রহ. বলেন, তোমরা বিপদ-মুসিবতকে অপছন্দ করো না। হতে পারে তুমি কোনো বিপদকে অপছন্দ করছ অথচ তাতেই রয়েছে তোমার নাজাত ও মুক্তি। আবার হতে পারে কোনো বিষয়কে তুমি খুব পছন্দ করছ অথচ তাতে রয়েছে তোমার ধ্বংসের ফায়সালা।
হযরত ফজল বিন সাহল রহ. বলেছেন, নিশ্চয় বিপদ মুসিবত ও অসুখ-বিসুখের মধ্যে মুমিনের জন্য প্রভূত নেয়ামত রয়েছে। এর দ্বারা তার গুনাহ ক্ষমা হয়। সবরের মহা প্রতিদান লাভ হয়। উদাসীনতা দূর হয়। সুস্থতার নেয়ামত সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। তওবার সুযোগ তৈরী হয়। এবং দান-সদকার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এজন্যই তো নবি কারিম সা. বলেছেন, ‘মুমিনের বিষয়টা বড় বিস্ময়কর। তার সব বিষয়ের মধ্যেই রয়েছে কল্যাণ। এমনকি যে কাঁটা তার পায়ে বিদ্ধ হয় তাতেও তার জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর এই কল্যাণ ও সৌভাগ্য একমাত্র মুমিন ব্যক্তিই অর্জন করতে পারে। যখন সে উত্তম অবস্থায় থাকে ও শোকর আদায় করে তা তার জন্য কল্যাণজনক। আবার যখন সে কোনো বিপদে আক্রান্ত হয়ে সবর করে তাও তার জন্য কল্যাণকর।

এখানে এ বিষয়টিও লক্ষণীয়, যে মহামারি সম্পর্কে আমরা জানছি, তা আক্রান্ত হলে মানুষ মৃত্যুবরণও করছে সেই রোগেও মুমিনদের জন্য ভয় নেই। বরং এটাও তার জন্য একটি সুসংবাদ। কেননা নবি কারিম সা. বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া ছাড়াও সাত প্রকারে মৃত্যু হলে মুসলমান শহীদ হতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো, কোনো মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা। (যদি সে সবর করে এবং এরপরও আল্লাহর নিকট প্রতিদানের আশা রাখে)। (সহিহ হাদিস)
সুতরাং বিপদ মুসিবত ও রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হলে আমাদের করণীয় হলো::-

এক, সবর করা। অর্থাৎ প্রথম অবস্থায়ই এই কথা মেনে নেওয়া যে, এই বিপদ আল্লাহর ইচ্ছাতেই এসেছে। সুতরাং আমি এক্ষেত্রে সব এখতেয়ার করব।

দুই, সওয়াবের আশা করা। কারণ কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ সবরকারীকে বিরাট প্রতিদান দান করবেন।

তিন, দুআ ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া। কারণ, বিপদ-মুসিবত থেকে উদ্ধারকারী কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি ব্যতিত আর কেউ সুস্থতা দিতে পারে না। কেউ সাহায্য করতে পারে না। একমাত্র তিনিই সাহায্যের মালিক। একমাত্র তিনিই বিপদ হতে উদ্ধারকারী। (বর্তমান মুসিবতে আমরা যে দুআগুলো পাঠ করব, তা শেষ পৃষ্ঠায় সংযুক্ত আছে)।

চার, সবসময় স্মরণ রাখা যে, এসব বিপদ-মুসিবত ও অসুখের কারণে আমার গুনাহ ক্ষমা হচ্ছে। যার ওসিলায় আখেরাতে আমার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

এ তো গেল, আখেরাতের বিবেচনায় কিছু করণীয়। এছাড়া দুনিয়াবী দৃষ্টিকোণ থেকেও আমাদের রয়েছে অনেক করণীয় ও বর্জনীয়। এসব বিষয়ে আমরা চিকিৎসকদের নিকট থেকে পরামর্শ গ্রহণ করব। চিকিৎসকগণ যেভাবে আমাদেরকে বলছেন, যেমন গণজমায়েত পরিহার করা, যেখানে-সেখানে না যাওয়া, যতটা সম্ভব ঘরে অবস্থান করা। আমরা এসব মেনে চলব। এছাড়াও চিকিৎসকগণ বললেছন, বারবার হাত-মুখ ইত্যাদি ধৌত করা। বিশেষ করে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া। এক্ষেত্রে আমরা ওযুর কথা বলতে পারি। বারবার ওযু করা যেমন সাস্থ্যের জন্য উপকারী, করোনার মতো ভয়ংকর ভাইরাস প্রতিহতকারী ঠিক তেমনই আখেরাতের বিবেচনায় অনেক সওয়াব ও নূরের অধিকারী। ওযু থাকা অবস্থায় ওযু করাকে বলা হয়েছে নূর আলা নূর। তো আমরা বেশি বেশি ওযু করতে পারি।

এছাড়াও আমাদের এখন সবচেয়ে বড় করণীয় হলো, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। এবাদতে মনযোগ দেয়া। গুনাহ ত্যাগ করা। কেননা, হাদিসে স্পষ্টরূপে বলা হয়েছে, যখন কোনো কওমের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা তা প্রকাশ্যে করতে শুরু করে তবে তাদের মাঝে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি দেখা দেয় যা তাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে ছিল না। এছাড়াও ওযনে কম দেয়া তথা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নিলে, যাকাত না দিলে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে এবাদত ও মানার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা ভঙ্গ করলেও আল্লাহ আযাবের ফায়সালা করেন।
সুতরাং আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় করণীয় হলো তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। নামাজ পড়তাম না, এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা। দান-সদকা করা। পরিপূর্ণরূপে যাকাত আদায় করা। নিজের বিভিন্ন পাপ ও গুনাহর কথা স্মরণ করে বারবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকা। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন, তোমরা ইসতিগফার করলে আল্লাহ তোমাদেরকে আযাব দিবেন না।

আরেকটা মৌলিক কথা বলে আলোচনা শেষ করছি। এমন সংকটকালে আমাদের উচিত হলো হক্কানী ওলামায়ে কেরামের সান্নিধ্য গ্রহণ করা। তাদের পরামর্শ মোতাবেক জীবন-যাপন করার জন্য বদ্ধ করিকর হওয়া। আল্লাহ এই কথাগুলোর উপর আমাকে ও সকল মুসুল্লি ভাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন।

প্রস্তুতকরণ
মুফতি আব্দুল্লাহ তালহা – মোবাইল: ০১৯৬৬ ৮১৯২৮৬

Waliul Islam হজরত এর টাইমলাইন থেকেঃ

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, ‘আল্লাহ পৃথিবীতে এমন কোনও রোগ দেন নি- যার প্রতিষেধক তিনি রাখেন নি।‘ বুখারী।

এরমানে হচ্ছে, সমস্ত রোগেরই প্রতিষেধক আছে। আমরা হয়ত তা জানি না। ফলত তা খুঁজে নেওয়া আমাদের কর্তব্য। সেটা আল্লাহর রহমেরই খোঁজ করা।

সুতরাং এটাও ইবাদাত। এই হাদীসের মধ্যে দিয়ে প্রকারান্তরে সেটাই বলা হচ্ছে। মানুষের কর্তব্য সেই প্রতিষেধকের অনুসন্ধান করা। আবিষ্কারে উৎসাহ দানই এর উদ্দেশ্য।

আদতে সপ্তম শতাব্দীতে পৃথিবীতে ইসলামের উত্থান ছিল এ যাবতকালের ইতিহাসে সবচে’ বড়ো বিপ্লব। কেবল প্রার্থনা কেন্দ্রিক ধর্মাচারের ব্যাপারেই নয় বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, আইন ও বিচার এবং বিজ্ঞানের বিস্তারেও তা ছিল বড়ো ঘটনা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপারটাতেই একটু লক্ষ্য করুন।

• খোদ রাসুল্লাল্লাহ সাল্লাম সংক্রামক ব্যধির বিস্তার সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং কোয়ারেন্টাইনের ধারণা প্রবর্তন করেন।

• ইসলামি খেলাফতের প্রাথমিককাল থেকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্তারে কাজ শুরু হয়। এনাটমি, ফিজিওলজির ব্যাপারে মুসলমানদের অগ্রগতি ছিল তদানীং দুনিয়ার মধ্যে সর্বাপেক্ষা অগ্রগামী।

• রক্তসঞ্চালন, ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের অবস্থান ও যথাযথ কার্যপ্রণালী মুসলমানদের দ্বারাই প্রথম আবিষ্কৃত হয়।

• কুষ্ঠ, বসন্ত, সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজের ক্ষেত্রে সে সময় পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোনও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়।

• জীবাণুনাশক তথা এন্টিসেপটিকের আবিষ্কার মুসলমানদের হাতেই এবং সফল প্রয়োগ হয় খেলাফতকালে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসালয়গুলোতে।

• ভিনেগার, গোলাপজল, এলোভেরা আর এলকোহল দিয়ে তাঁদের তৈরি করা স্যানেটাইজার এখনো অবধি সংক্রমণ প্রতিরোধে পৃথিবীর প্রধানতম অবলম্বন।

• ইসলামি হাসপাতালগুলোই প্রথম হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি তথা হাসপাতাল স্টেরাইল করার ধারণা প্রদান করে। তখন ইউরোপে কোনও উপযুক্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থাই ছিল না।

• শল্য চিকিৎসা তথা সার্জারির পায়োনিয়ার হচ্ছেন মুসলিমগণ। হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর আবুল কাসিম আল জাহরাবি রহ. একাই দুইশো সার্জিকাল ইন্সট্রুমেন্ট আবিষ্কার করেন।

এর অধিকাংশই আজও ব্যবহৃত হয়। যেমন, সার্জিক্যাল রিট্র‍্যাক্ট্রর, ফোরসেপস, স্পেকুলা, স্কালপেল এর মত বহুল প্রচলিত যন্ত্রাদি।

• হিজরি দ্বীতিয় শতক থেকে বাগদাদে গড়ে উঠা হাসপাতালগুলো মূলত আধুনিক হাসপাতাল ব্যবস্থার রূপকার। সেখানে আলাদা আলাদা রোগের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আলাদা সার্জারি ও মেডিসিন এবং সংক্রামক ব্যধি ওয়ার্ড, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ব্যবস্থা ছিল।

সেখানে পৃথক ফার্মাসি বিভাগ ছিল। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোয় নতুন চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

• পৃথিবীতে এনেস্থিসিয়ার প্রয়োগও মুসলিমদের হাত ধরেই শুরু।

• অপথালমোলজি অর্থাৎ চক্ষু চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং সাইকিয়াট্রির পৃথিবীর প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র ছিল বাগদাদ, কায়রো, আলেপ্পো আর দামেস্কে।

• এক হাজার শতকের মধ্যে ইসলামি খেলাফতকালে অন্তত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল শিক্ষা কেন্দ্রের বিবরণ মেলে। যার প্রথম সূচনা নবম শতাব্দীতে। এরও প্রায় তিনশত বছরের অধিককাল পরে ইউরোপে প্রথম কোনও প্রাতিষ্ঠানিক মেডিক্যাল শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপিত হয়।

এটা ছিল আমাদের পূর্ববর্তীদের শিক্ষা। তাঁরা বিজ্ঞানের বিচারেও ইউরোপ থেকে ছিলেন কয়েক শতাব্দী এগিয়ে। দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের এখন কেবলই কোনও কিছু হলে তাকিয়ে থাকতে ইউরোপ-আমেরিকার দিকে।

ইদানীং আমরা কেবল দোয়ার মধ্য দিয়েই পরিত্রাণ পেতে চাই। ইসলাম তো কেবলই এটা শেখায় না। খোদ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিকিৎসা গ্রহণ করে। চিকিৎসা বাতলে দিয়ে আমাদের জন্য নিদর্শন রেখে গেছেন।

অবশ্যই আমরা দোয়া করব, আল্লাহ্‌র মূখাপেক্ষী থাকব। দোয়া করব যেন আরোগ্যলাভের মাধ্যম ও চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারি। আমরা তাঁরই দেওয়া প্রতিষেধকের সন্ধান করব। এই দিকে আমাদের কি কোনও মনোযোগ আছে?

আমাদের পূর্বপুরুষেরা তো আমাদের চে’ অধিক ইবাগাতগুজার ছিলেন। অনেক বেশি তাওয়াককুল করতেন। অর্থাৎ আরও অনেক বেশি ফেইথ বেইজড ছিলেন। আমরা তো সেদিকেও পিছিয়ে। এদিকেও পিছিয়ে। অথচ এই দুইয়েরই সমন্বয় খুব দরকার।

এই মূখাপেক্ষিতা, এই অক্ষমতা লজ্জার। আল্লাহ আমাদের উপর সহায় হন।

সর্বোপরি একটা কথা – এই মহামারির জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি থেকে বেশি দোয়া করা দরকার। কারন আল্লাহ তাআলাই পারেন এই মহামারি থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

1 thought on “করোনা ভাইরাস থেকে বাচার উপায় – A to Z সমাধান”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!